প্রীতিলতা জীবন কাহিনী নিয়ে " বন্দে মাতৃকা" নাটক মঞ্চস্থ করলো থিয়েটার শাইন
আয়োজনে গত ১৫ ই জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরপাড়া গণ ভবনে মঞ্চস্থ হলো দেশপ্রেম নিয়ে সমসাময়িক ভাবনায় থিয়েটার শাইন এর নতুন নাটক " বন্দে মাতৃকা " ।থিয়েটার শাইন নিবেদিত শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় 'বন্দে মাতৃকা... প্রথম শহীদ নারীর কথা'। এই নাটকটা একটাই জরুরি প্রশ্ন তোলে - "আজকের দিনে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কেন প্রাসঙ্গিক?
সুবজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই - তিনি প্রীতিলতাকে ইতিহাসের পাতায় বন্দি করে রাখেননি। নাট্যকার নিজে এবং অনুপম দাশগুপ্ত প্রীতিলতাকে করে তুলেছেন এক জীবন্ত শক্তি। যার সাহস আজও আমাদের সাথে কথা বলে। স্বাধীনতা শুধু অতীতের রাজনৈতিক জয় নয়। এটা প্রতিদিনের লড়াই - নীরবতার বিরুদ্ধে, হুমকির বিরুদ্ধে, সামাজিক হিংসার বিরুদ্ধে, আর নিজের মনের দুর্বলতার বিরুদ্ধে। এখানে দেশপ্রেমের মানে বদলে যায়। দেশপ্রেম মানে শুধু জাতীয়তাবাদ নয়। দেশপ্রেম মানে নিজের সময়ে সত্যের পাশে দাঁড়ানোর সাহস। মঞ্চভাবনা ইচ্ছাকৃত ভাবেই অবাস্তব। ইরার জেগে ওঠা এক প্রতীকী জঙ্গলে। যেখানে স্মৃতি, ইতিহাস আর কল্পনা একসাথে মেশে। সাদা কাগজে মোড়া থামগুলোই আলো আর অভিনয়ের জাদুতে হয়ে ওঠে জঙ্গল, ব্যারিকেড, জেলের দেওয়াল। এত অল্প উপকরণে এত বড় ক্যানভাস - এখানেই থিয়েটার সাইনের জয়।
শেষ কথা একটাই
'বন্দে মাতৃকা' সফল কারণ এটা প্রীতিলতাকে মিউজিয়ামের মূর্তি করে রাখেনি। এটা মনে করিয়ে দেয় - প্রতি প্রজন্মের নিজস্ব লড়াই আছে। নিজস্ব নীরবতা আছে, যা ভাঙতে হবে। নিজস্ব সাহস আছে, যা খুঁজে নিতে হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মত্যাগকে আজকের নৈতিক সংকটের সাথে জুড়ে দিয়ে সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এমন একটা নাটক তৈরি করেছেন যা রাজনৈতিক ভাবেও জরুরি, আবার আবেগের দিক থেকেও নাড়া দেয়। বিপ্লবীদের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা তাঁদের মনে রাখা নয়। তাঁদের সাহসকে আজকের দিনে বাঁচিয়ে রাখা।



Comments
Post a Comment