ইরেশ বড়াল পরিচালিত ছবি আগমনী মুক্তির প্রতীক্ষায়

সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ আইচ (কোলকাতা) :এইএই জুলাই মাসে মুক্তি পেতে চলেছে ইরেশ বড়াল পরিচালিত নতুন সিনেমা " আগমনী "।গল্প, স্ক্রীনপ্লে, ডায়ালগ, প্রযোজক, পরিচালনা সব ইরেশ বড়ালের। আগমনী শব্দের অর্থ স্বাগতম।

"আগমনী" নামের এই চলচ্চিত্র সহদেব নামের একজন গ্রামীণ শিল্পীর আশা-নিরাশা এবং তাঁর চারপাশের গভীরভাবে প্রোথিত গ্রাম্য কুসংস্কার, জাতপাতের সংঘাতের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রামের চিত্রায়িত দলিল।

অজয় দাস এর সুরে এই জুলাই মাসে মুক্তি পেতে চলেছে আগমনী ছবিটা। সম্প্রতি নিউ মার্কেটের পাশে ওয়াই এম সি এ হলে এই ছবির পোস্টার ও মিউজিক লঞ্চ হয়ে গেলো।উপস্থিত ছিলেন ছবির কলা কুশলীরা।

বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব "দুর্গোৎসব" এর প্রাক্কালে গ্রাম্য বাউলরা আগমনী গান গেয়ে থাকেন। এ হচ্ছে দেবী দূর্গার পিত্রালয় থেকে বৎসরে একবার পতিদেবতা শিবের গৃহ অর্থাৎ দূর্গার শ্বশুরবাড়ীতে যাবার আনন্দে গ্রামীণ মানুষের আনন্দের উচ্ছ্বাস প্রকাশের গান। এই একটি মাত্র উৎসবে বাংলার গ্রামীণ জীবনে সকল হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ধনী দরিদ্র, উচ্চনীচ জাতি ভেদাভেদ ভুলে আনন্দে মাতোয়ারা হয়। দূর্গোৎসব যেহেতু ব্যয়সাপেক্ষ, সাধারণতঃ ধনী এবং সম্পন্ন গ্রামীণ জমিদাররা জাঁজমক করে উৎসব আয়োজন করে এবং সামন্ত-জমিদারদের সেই উৎসবের আনন্দে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলে অংশগ্রহণ করে। আগমনী ছবির গল্পটি সংক্ষেপে হলো , এই শুভ উৎসবে গ্রামবাসীদের খাদ্য ও বস্ত্রদান করা হয়। ঐতিহ্যমণ্ডিত এই উৎসবে গ্রামবাসীদের মনে হতাশাও থাকে কারণ-এই উৎসবকে তারা আপন করে নিতে পারছে না। এই কারণে অভি নামের এক গ্রাম্য সমাজকর্মী গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে সার্বজনীন দুর্গোৎসবের আয়োজন করবার প্রস্তাব দেবার সঙ্গে সঙ্গে সকলে সাগ্রহে সম্মতি দিল।

এই চলচ্চিত্র সহদেব নামের এক প্রতিমা শিল্পীর দীর্ঘদিনের হৃদয়ের লালিত-বাসনার মোহভঙ্গের উত্থান পতনের কাহিনী। সে চাইল, জনারণ্যের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে আত্মসাধনার নিমগ্ন থেকে শৈল্পিক দেবীমূর্তি তৈরী করবে। সঙ্গে থাকবে শুধু তার বাবা-মা। কিন্তু বিধি বাম। তাঁর এই প্রয়াস সফল হ'ল না। সহদেব হামিদ নামের একটি মুসলমান ছেলেকে তার মূর্তিনির্মাণে সাহায্যকারী হিসেবে নিযুক্ত করেছিল। ফলতঃ সংকীর্ণমনা রক্ষণশীল হিন্দু ব্রাহ্মণরা এবং গ্রামপ্রধান মিলে তার বিরুদ্ধে ঈশ্বর অবমাননার অভিযোগ তুলল। তারা ঘোষণা করল, এই মূর্তি পুজা করা যাবে না। এই সংঘাত এমনরূপ নিল যে নগেন কাকার মত শ্রদ্ধেয় গ্রাম্য ব্যক্তিত্ব ও অকৃতকার্য্য হলেন। তাঁর দার্শনিক বক্তব্য, ঈশ্বর সর্বভূতে বিরাজিত তাঁর কোন জাত নেই এই সংকীর্ণ মনোভাবের কাছে পরাজিত হ'ল। ঘটনাটা এত খারাপের দিকে গেল যে, গ্রাম্যদুর্বৃত্তরা এই সুযোগে জমিদখল করে কারখানা বানাবার চেষ্টা করল। ঘটনাটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নিল। বিপন্ন হ'ল কিশোর হামিদের জীবন। নগেনকাকা মুসলিম সম্প্রদায়ের আশঙ্কা দূর করার জন্য, তাদের গুজবে কান দিতে নিষেধ করলেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্য যাতে অটুট থাকে সেই ব্যাপারে সচেষ্ট হন। 

গ্রাম থেকে যাবার প্রাক্কালে, আজীবন সংগ্রামী দেশপ্রেমিক নগেনকাকা শিল্পী সহদেবকে কঠিন দায়িত্ব দিলেন মুসলমান ছোট্ট হামিদকে ভাল শিল্পীরূপে গড়ে তোলার। সহদেব এ দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারল না। নগেনকাকার স্বপ্ন হামিদ বড় হয়ে জাতপাতের সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে এক নতুন সমাজ গঠন করবে, যেখানে থাকবে শান্তি ও ঐক্যের পরিবেশ। থাকবে না কোন ঘৃণা ও অন্যায়ের স্থান। পরিশেষে তিনি সহদেবকে আরও উপদেশ দিলেন সহদেব যেন হামিদকে সঙ্গে নিয়ে যায় এবং তাকে একজন ভাল প্রতিভাবান শিল্পীরূপে গড়ে তোলে যাতে প্রমাণিত হবে একজন অখ্যাত অজ্ঞাত সৃষ্টিশীল প্রতিভা সঠিক সুযোগ পেলে মানবসমাজের কল্যাণের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। ইরেশ বড়াল ফিল্মস্এর নিবেদনে " আগমনী "
দর্শকদের মন জয় করতে আসছে এই জুলাই মাসে।

Comments

Popular posts from this blog

ICCR হলে " বঙ্গরত্ন সন্মান " পেলেন বিশিষ্ঠ সেতার শিল্পী বাণী মুখোপাধ্যায়

তপন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হলো দিল্লি রুম থিয়েটারের নাটক " সূর্য নেই স্বপ্ন আছে " এই নাটক এক কথায় সময় উপযোগী প্রযোজনা

মুক্তির প্রতীক্ষায় সোমনাথ সেন পরিচালিত ছবি পাখির বাসা