বিধান শিশু উদ্যানে অতুল্য ঘোষের 123 তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন পালন অনুষ্ঠান
সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ আইচ
গত 28 এবং 29 আগস্ট শুক্রবার ও শনিবার বিধান শিশু উদ্যানে সাড়ম্বরে পালিত হল প্রতিষ্ঠাতা ও জননেতা অতুল্য ঘোষের 123 তম জন্মদিন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, প্রবীণ সাংবাদিক মিহির গঙ্গোপাধ্যায়, ইসরোর প্রাক্তন অধিকর্তা তপন মিশ্র, মহাকাশ বিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারী, সমাজসেবী শ্যাম আগরওয়াল এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অরূপ কুমার দাস। বক্তারা প্রত্যেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুল্য ঘোষের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন সময়ে ইংরেজ পুলিশের অকথ্য অত্যাচারে তাঁর শরীরের হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে সারাজীবন তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। মেদিনীপুর জেলে বন্দি অবস্থাতে ইংরেজ পুলিশ অফিসার অতুল্য ঘোষের চোখে ব্যাটন ঢুকিয়ে দিয়েছিল। জেল থেকে বেরিয়ে সুস্থ হয়ে আবার স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। স্বাধীন ভারতে পনেরো বছর তিনি লোকসভার সদস্য ছিলেন। একটা সময় সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসে শিশুদের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।
নারকেলডাঙার কাছে ডা. বি. সি. রায় মেমোরিয়াল চিলড্রেনস হসপিটাল যা শুধুমাত্র আমাদের রাজ্যে একটিই সরকারি শিশু হাসপাতাল। এর পাশাপাশি তৈরি করেছিলেন বিধান শিশু উদ্যান যা এ বছর 50 বছর পূর্ণ করল। অতুল্য ঘোষ প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা শিশু-কিশোরদের উন্নতিকল্পে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা, নাচগান, বিদেশি ভাষা শিক্ষা সবই। অতুল্য ঘোষের জন্মদিনে সহস্রাধিক শিশু-কিশোর এবং তাদের অভিভাবক-অভিভাবিকারা অংশগ্রহণ করে। এইদিন 'বন্দেমাতরম্' গানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, আবৃত্তি পরিবেশন করে।
সবশেষে গীতি-আলেখ্য-- 'বর্ষা' উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ দিন জন্মোৎসব পালনের দ্বিতীয় দিনে বিধান শিশু উদ্যানের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনের পাশাপাশি ছিলো জনপ্রিয় লোকশিল্পীদের দল 'দোহারের' গান। সব মিলিয়ে জমে উঠেছিলো দুদিনের এই অনুষ্ঠান।



Comments
Post a Comment